ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয়ে একই সময়ে বিভিন্ন ফ্রন্ট সক্রিয় করার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। হামাস এককভাবে আক্রমণ শুরু করায় একই সময়ে ইরান ও হিজবুল্লাহ অন্য ফ্রন্টগুলো সক্রিয় করতে পারেনি। এবার সেই দুর্বলতা কাটিয়ে শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টে একযোগে চাপ তৈরির কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরব গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরান এখন একই সময়ে সবকটি ফ্রন্ট সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে হামাসের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত খলিল আল-হায়ার সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনরায় সমন্বয় লক্ষ্য করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় ক্ষয়ক্ষতির পর ইরানপন্থি এই জোটে ইয়েমেন ও ইরাকের মিলিশিয়াদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়াও জোরদার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের এসব দাবির বিষয়ে ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি কিংবা ইরাকের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।