রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড, ব্যক্তিগত গোলের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক নিজের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছেন।
এমবাপ্পেও মনে করছেন, এবার সময়টা তার পক্ষেই যেতে পারে। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এই গ্রীষ্মে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তিনি অনেক ইতিহাস তৈরি করেছেন। তাই এবার ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য এটি তার ক্যারিয়ারের ভালো একটি বছর হতে পারে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ২০২৫-২৬ মৌসুমটিও ছিল দুর্দান্ত। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। লা লিগায় ২৫ গোল করে জিতেছেন পিচিচি ট্রফি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১৫ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তবে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও দল হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের মৌসুমটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। আসরে ১০ গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের নাম আরও ওপরে তুলেছেন তিনি। তিন বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে চারটি, ২০২২ সালে আটটি এবং ২০২৬ সালে ১০টি গোল করেছেন তিনি। তিন বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ২২।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও বেশ আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিজেকেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন কি না, জবাবে বলেন, ‘সবসময়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, সেরা খেলোয়াড় কে—এটি অনেকটাই ব্যক্তিগত মতের বিষয়। কেউ তাকে বিশ্বের সেরা মনে করতে পারেন, আবার কেউ নাও করতে পারেন। সবার মত এক হওয়াটা জরুরি নয়।
শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। আর সেই ভোট দেবেন সাংবাদিকরা। ফলে অসাধারণ ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও বিশ্বকাপের সাফল্য এবার এমবাপ্পেকে পুরস্কারটির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।