অটোরিকশা চালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখেই ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একটি নিবন্ধিত নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক অটোরিকশা চালানোর সুযোগ বন্ধ হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ দূষণ কমাতে লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নির্দিষ্ট এলাকা অনুযায়ী অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান গ্রাম ও শহরের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ যেমন সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবা প্রদানকারীদের জন্যও বড় ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
তবে এসব যানবাহনের দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান চলাচল করছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানান তিনি।
এদিকে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
সরকারের নতুন নীতিমালায় একদিকে অটোরিকশা খাতকে নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।