কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের আবহে আগস্টে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশটির রপ্তানি ও আমদানি উভয়ই শক্তিশালী হয়েছে।
চীনের শুল্ক প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বাভাসের তুলনায় প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। অন্যদিকে আগস্টে চীনের আমদানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। জুলাইয়ে আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী আমদানি ৩১ শতাংশ বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কিছুটা কম হয়েছে।
চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে কিছুটা স্থবিরতা থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্য দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন, ভোগ্যপণ্য ও শিল্প সরঞ্জামের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ চীনা পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়িয়েছে। শুল্ক বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীনের কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং বলেন, অর্থনীতিকে সচল রাখতে চীন এখনো রপ্তানিকারকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। তবে চীনের শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশটির কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। বিদেশি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চীনা পণ্যের ব্যাপক প্রবাহ স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৭ শতাংশ। এদিকে চলতি মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের বাণিজ্যের এই শক্তিশালী পরিসংখ্যান সামনে এলো। এর আগে ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেও চীন ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল।