তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে

লোডশেডিংয়ে আলু নিয়ে শঙ্কা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময় , আপডেট সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময়

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নির্ধারিত শীতল পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিমাগারগুলোতে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আলু সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।


হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি চালু রাখা হচ্ছে। তবে তীব্র গরমের কারণে সব যন্ত্র একসঙ্গে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। শাওন হিমাগারের ব্যবস্থাপক নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের যন্ত্র নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পরে আবার শুরু থেকে যন্ত্র চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এ বাড়তি খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।


এদিকে হিমাগারে বীজ আলু রাখা কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর কৃষক সোলেমান আলী জানান, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য তিনি হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করেছেন। এসব আলু নষ্ট হলে পরের মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। হিমাগারে আসা ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সব যন্ত্র একসঙ্গে চালানো সম্ভব না হওয়ায় আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরাই।


বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জেলাজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, প্রচণ্ড গরমে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমনিতেই যন্ত্র বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে যদি এক ঘণ্টা সময় লাগে, তার মধ্যে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কক্ষ ঠান্ডা করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।


সৈয়দপুরের ঈসমাইল বীজ হিমাগার, সাজেদা ও নর্দান হিমাগারেও বীজ ও বিক্রির জন্য রাখা আলু নিয়ে কৃষক ও পাইকারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং তীব্র গরমে সংরক্ষিত আলু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। সৈয়দপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার আবাসিক প্রকৌশলী মো. আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে কারখানা ও হিমাগারগুলোতেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯