২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি বিবেচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহিদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং এ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় রাখা হবে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ দেশের সব মাদ্রাসায় মধ্যাহ্নভোজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বিদ্যালয় আপাতত সরকারি করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ ও উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। দেশের সব কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়কে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।