ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে হঠাৎ চোখের সামনে চলে আসতে পারে অশ্লীল ছবি, ভিডিও কিংবা আপত্তিকর বিজ্ঞাপন। এমন দৃশ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে চোখে পড়লে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এতে কি অজু নষ্ট হয়ে যায়? ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা।
ফেসবুক স্ক্রল করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আপত্তিকর দৃশ্য চোখে পড়ে গেলে শুধু সেটি দেখার কারণে অজু ভেঙে যায় না। কারণ অজু ভঙ্গের কারণগুলোর মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো দৃশ্য চোখে পড়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে দৃশ্যটি সামনে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে সেটির দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা তা উপভোগ করা গুনাহের কাজ। তাই এমন কিছু চোখে পড়লে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়াই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, মুমিনদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে। এটিকেই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা রয়েছে সুরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে। হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো দৃশ্য চোখে পড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনাও রয়েছে। হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ নজর পড়ে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে নবীজি তাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে অশ্লীল কোনো দৃশ্য দেখার কারণে যদি যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শরীর থেকে মজি নামের তরল পদার্থ বের হয়ে যায়, তাহলে অজু ভেঙে যাবে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে অজু করতে হবে। অন্যদিকে কোনো ধরনের শারীরিক নিঃসরণ না হলে শুধু আপত্তিকর দৃশ্য চোখে পড়ার কারণে অজু নষ্ট হবে না।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় হঠাৎ এমন কোনো দৃশ্য সামনে এলে দেরি না করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। অনিচ্ছাকৃত প্রথম নজরের পর ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার তাকিয়ে থাকা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ার পর ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের দৃষ্টি ও অন্তরকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।