দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার সরকারি হিসাব থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা তীব্র সংকটে পড়ছেন বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দাম এবং ডিলার নিয়োগে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগেই কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করতে হয়েছে।
সংসদে অভিযোগ তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম চলছে। শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ের সুপারিশ উপেক্ষা করে একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ দিচ্ছে। একই ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করে বড় অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ কৃষকের ওপর।
সীমান্ত এলাকায় সার পাচারের বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, কুড়িগ্রামে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ এবং গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সরকারি ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এর বিনিময়ে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়ংকর মাদক প্রবেশ করছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সার সংকটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, দেশ কি আবারও কৃষকদের জন্য ভয়াবহ সংকটের দিকে এগোচ্ছে? নিজেকে কৃষক পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বাড়াতে হবে। আসন্ন বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপিসহ সব ধরনের রাসায়নিক সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপও দাবি করেন।