রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর দীর্ঘতম সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটি রাশিয়া সীমান্তের প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাড়ে চার মিটার উঁচু নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। সীমান্ত ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কার মধ্যেই এই ব্যবস্থা জোরদার করল হেলসিঙ্কি।
ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে নির্মিত নিরাপত্তা বেড়ার বড় অংশই রয়েছে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। বেড়ায় আধুনিক ক্যামেরা ও বিভিন্ন ধরনের নজরদারি সেন্সরও স্থাপন করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিনের সামরিক জোটনিরপেক্ষতার অবস্থান থেকে সরে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ন্যাটোর সদস্য হয় দেশটি।
এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে রাশিয়া সীমান্ত দিয়ে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি ভিসাবিহীন অভিবাসী ফিনল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ফিনল্যান্ড তখন অভিযোগ করে, রাশিয়া তৃতীয় দেশের নাগরিকদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়ে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ কৌশল ব্যবহার করছে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওই ঘটনার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের স্থলসীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ফিনল্যান্ড।
সাড়ে চার মিটার উঁচু এই সীমান্ত বেড়া নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫৬ মিলিয়ন ইউরো। এর রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি বছর আরও দুই থেকে তিন মিলিয়ন ইউরো খরচ হবে। ফিনল্যান্ডের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বড় ধরনের জনসমাগম ঠেকাতে শারীরিক বেড়া এখনো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই বেড়ার পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রানতানেন সীমান্ত পরিস্থিতিকে ‘শান্ত, তবে উত্তেজনাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পরিস্থিতি যেকোনো সময় দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকতে হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তাও চেয়েছে ফিনল্যান্ড। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত সীমান্ত নিরাপত্তা আইন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এর কিছু বিধান মানবাধিকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়া ও বেলারুশ সীমান্তবর্তী ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আরও কয়েকটি দেশও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে।