অনলাইনে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ রাখতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ এবং

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল-মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইইউতে মতবিরোধ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:১২ সময় , আপডেট সময় : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:১২ সময়

অনলাইনে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ রাখতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ এবং বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে ২৭ দেশের এই জোট। তবে প্রস্তাবটি ঘিরে ইতোমধ্যেই শিশু অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


ডেনমার্ক ও গ্রিসসহ ইইউর কয়েকটি দেশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করার পর ইউরোপেও এই উদ্যোগ আরও জোরালো হয়। সমালোচকদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বয়সসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ দিকে বয়স যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ইইউর।


তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তিও কম নয়। শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার সীমিত করলে শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে বয়স যাচাইয়ের সময় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ থাকবে। ইউরোপের সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজির কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান সিরহিগিরির মতে, শিশুদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ করা, শিশুদের অনলাইন জগৎ থেকে দূরে রাখা নয়।


শিশু অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রায় ১৩২টি সংগঠন ও বিশেষজ্ঞও সবার জন্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। তারা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করার জন্য বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে পুরোপুরি ঐকমত্য নেই। এস্তোনিয়ার ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী লিসা-লি পাকোস্তা মনে করেন, শিশুদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিষিদ্ধ করার বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবেশকেই নিরাপদ করা প্রয়োজন।


ইইউ ইতোমধ্যে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ কার্যকর করেছে। এই আইনের আওতায় চলতি বছর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটককে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত আসক্ত করে তুলতে পারে—এমন নকশা ও সুবিধাগুলো পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মূল সমস্যা শিশুদের অনলাইনে থাকা নয়; বরং শিশুদের জন্য অনলাইন পরিবেশকে যথেষ্ট নিরাপদ করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯