বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ইরানের বিখ্যাত কবি ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রভাব এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সংকটসহ নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনপত্র দেন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ইরান ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।