বিগত ১৮ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। তার দাবি, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই খাতকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। সময় ও সহযোগিতা পেলে দেশের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ এই বইমেলার আয়োজন করেছে।
সরকারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে একটি শিশুর উদাহরণ তুলে ধরেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। তিনি বলেন, একটি শিশু জন্মের পরপরই তাকে বাবা ডাকতে বললে সে তা পারবে না। তাকে সময় দিতে হবে, ধীরে ধীরে বড় হতে হবে। বড় হওয়ার পর সে নিজেই বাবা ডাকবে। ঠিক তেমনি বর্তমান সরকারকেও কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা দেওয়া হলে ইনশাআল্লাহ বর্তমান পরিস্থিতি আর থাকবে না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথে কাজ করে যেতে হবে। তাহলে দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে ইসলামী বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, বই পড়ার অভ্যাস এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ এবং ইসলামের শান্তি ও কল্যাণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই মেলার অন্যতম লক্ষ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৮ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল। অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে মুক্ত করে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সব ধরনের অন্যায় ও অবিচার স্থায়ীভাবে দূর করতে হবে। এমনভাবে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে কোনো বৈধ কাজের জন্যও কাউকে এক পয়সা দিতে না হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী।