ফিক্সিংয়ের সন্দেহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এনামুল হক বিজয়সহ নয় ক্রিকেটারকে নিয়ে

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দিতে বলেননি তদন্ত কমিটির প্রধান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময় , আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময়

ফিক্সিংয়ের সন্দেহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এনামুল হক বিজয়সহ নয় ক্রিকেটারকে নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। এতদিন বলা হচ্ছিল, স্বাধীন তদন্ত কমিটির ৯০০ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের বিপিএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় ১১ মাস পর অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, তার তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়নি। বরং কয়েকজনকে নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় বলেও জানান তিনি।


শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে। কাকে তদন্ত করা হবে, কীভাবে তদন্ত করা হবে—এসব বিষয়ে বাইরের কোনো পক্ষ তাদের নির্দেশ দেয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সাধারণ আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর তিনি বিসিবি সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। মার্শাল আরও জানান, কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। যেমন কোনো ক্রিকেটার যদি জানান, তাকে বার্তা পাঠিয়ে খারাপ খেলার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাহলে সেটি তদন্ত শুরুর ভিত্তি হতে পারে। সতীর্থ, কোচ, দলীয় কর্মকর্তা, সাংবাদিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


তবে কোনো দল অস্বাভাবিকভাবে খারাপ খেললেই সেটিকে ফিক্সিং হিসেবে ধরে নেওয়া হয় না। তার ভাষায়, কোনো দল ৫০ রানে অলআউট হলে ক্ষুব্ধ দর্শক ফোন করে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ করতেই পারেন। কিন্তু শুধু এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা যায় না। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকলেই তদন্ত শুরু করা হয়।


তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়। তদন্তে সহযোগিতা না করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে সাধারণত তিন ধরনের ফল পাওয়া যায়। শক্তিশালী প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। কিছু নেতিবাচক তথ্য থাকলেও অভিযোগ আনার মতো যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে কিংবা ভুল পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উঠলে তাকে দায়মুক্ত করে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।


এনামুল বিজয়সহ নয় ক্রিকেটার প্রসঙ্গে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিপিএল পরিচালনা পর্ষদকে সতর্ক করা হয়েছিল যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তাই বিপিএলের দ্বাদশ আসরে তাদের আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ওই নয়জনকে তিনি নিজে আলাদাভাবে নির্বাচন করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি মানুষের নাম ছিল। তাদের মধ্যে যারা বিপিএলের দ্বাদশ আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী বিপিএলে ওই ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন মার্শাল। তিনি জানান, দ্বাদশ আসরের আগে তাদের আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শটি শুধু ওই আসরের জন্যই ছিল। বর্তমানে তাদের কারও ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, কারণ তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হননি। অর্থাৎ, এনামুল হক বিজয়সহ ওই নয় ক্রিকেটার ক্রিকেট খেলা থেকে নিষিদ্ধ নন। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হওয়ায় তারা নিয়ম মেনেই ক্রিকেটে ফিরতে এবং ভবিষ্যৎ বিপিএলে অংশ নিতে পারবেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯