পদ্মার পানি আর মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার দূরে বিপৎসীমা থেকে। পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী

পদ্মার পানি বাড়ছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৩ সময় , আপডেট সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৩ সময়

পদ্মার পানি আর মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার দূরে বিপৎসীমা থেকে। পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক। এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি, পানিতে ঢুকেছে ইটভাটা ও নদীতীরের বসতিতে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও উঠতে শুরু করেছে পানি। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৩ মিটার। অথচ এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।


একদিন আগেও একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার। স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি ঢল এবং ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার কারণে পদ্মায় পানির চাপ বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরদীর নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শত শত একর জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। এসব জমিতে কলা, গাজর, মুলা, করলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছিল।


সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মাতীরবর্তী সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কোথাও কোথাও পানি রক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে লোকালয়ের দিকে ঢুকছে। পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন জানিয়েছেন, সাঁড়া ঘাট এলাকায় কোনো রক্ষা বাঁধ নেই। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে কোমরপুর, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নদীতীরের ফসলি জমিগুলো ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।


অন্যদিকে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের সংকট। চরে থাকা গরু-মহিষের বাথান ভেঙে অনেকেই গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে আসছেন। শুধু কৃষি নয়, পানি ঢুকে ক্ষতির মুখে পড়েছে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৩০টির বেশি ইটভাটাও। সবচেয়ে বেশি নজর এখন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে। সোমবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির ১৫টি গার্ডারের মধ্যে ১৪টিই পানির নিচে। বাকি একটি গার্ডারের কাছেও পানি উঠে এসেছে। পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকলে সেটিও দ্রুত পানিতে ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


পানি বাড়ার প্রভাব পড়েছে ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ব্যবসাতেও। চা, খাবার, ফলমূল ও খেলনার দোকানগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দেখে ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। একজন ফুচকা বিক্রেতা জানান, তার দোকানের জায়গায় পানি উঠে যাওয়ায় তিনি দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। পানি বাড়ার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ মিটার। আগের দিন একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি শেষ পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। ফসলের ক্ষতি, গোখাদ্যের সংকট, ইটভাটায় পানি প্রবেশ এবং নদীভাঙনের পাশাপাশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের আশপাশের পরিস্থিতিও এখন নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ঈশ্বরদীর নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯