ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এবার নতুন কূটনৈতিক মোড় নিতে যাচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে তেল সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ার মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাজধানী বেইজিংয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চলমান সংঘাতের কারণে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক সেই সময় আরাগচির এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন বৈঠকে শুধু যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নয়, সংঘাত বন্ধের সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর আগে গত জুলাইয়ে ওয়াং ই ও আব্বাস আরাগচির মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও তাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় দেখা যায়।
আরাগচির চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হতে পারে হরমুজ প্রণালি। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চীন। ফলে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হলে কিংবা মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে সরাসরি চাপ পড়তে পারে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়লে তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে বেইজিংয়ে আরাগচি ও ওয়াং ইয়ের বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ থামাতে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উপায়—এসব বিষয়ে বৈঠকে কী বার্তা আসে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।