ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আবারও বড় চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের

ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৮ সময়

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আবারও বড় চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি সাতজন রিপাবলিকানও সমর্থন দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।


আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি অনির্দিষ্টকালের আরেকটি যুদ্ধকে সমর্থন করবেন না বলেও জানান। তবে এই প্রস্তাবের সামনে বড় বাধা রয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাইয়েও প্রতিনিধি পরিষদ যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। কিন্তু সেগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


অন্যদিকে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে যদি এখনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে অঞ্চল থেকে কোন সামরিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হবে। তার দাবি, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ ইস্যুটি মার্কিন রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলছে। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে।


যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও চাপ পড়ছে। ছয় মাসে যুদ্ধের পেছনে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।


প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে ৬০ দিনের বেশি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।


ফলে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বশেষ ভোটের পর এখন নজর থাকবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এবং প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত সিনেট ও প্রেসিডেন্টের পর্যায়ে কীভাবে এগোয়, সেদিকে।


সূত্র: আলজাজিরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯