গরমে যখন একটু বিদ্যুতের আশাই মানুষের ভরসা, ঠিক তখনই রাতের আঁধারে চুরি হয়ে গেল গ্রামের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। আর এর পরিণতিতে শুধু বিদ্যুৎহীনতাই নয়, নতুন ট্রান্সফরমার বসাতে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে বিপাকে পড়েছেন মিরসরাইয়ের প্রায় ৭০টি পরিবার। চট্টগ্রামের মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে বুধবার ভোররাতে ঘটে এই ঘটনা। ফজরের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বাসিন্দারা প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে করেছিলেন। কিন্তু সকালে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি খুলে নিয়ে গেছে চোরের একটি চক্র।
তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘরে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মসজিদের মুসল্লিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীরা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানালে নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য প্রায় ৮৭ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর ও নিম্নআয়ের হওয়ায় এত বড় অঙ্কের টাকা হঠাৎ করে জোগাড় করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন যন্ত্র বসাতে গ্রাহকদের মূল দামের অর্ধেক অর্থ দিতে হয়। আর একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো খরচই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। এদিকে ট্রান্সফরমারের আকার অনুযায়ী দামও কম নয়। ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএ প্রায় ৮৩ হাজার, ১৫ কেভিএ প্রায় ১ লাখ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ নয়, গত কয়েক মাসে জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও রাতের আঁধারে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে চোরের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক চাপও পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকেরা দাপ্তরিকভাবে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের দায়ে যখন অসহায় গ্রাহকদেরই বড় অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে, তখন দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর পাশাপাশি চোরচক্রকে আটক করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে?