ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথি নেতাদের দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি। হুথি নেতারা আরও দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সামরিক ও রসদ সরবরাহের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে প্রায় ৩০০টি বিমান অভিযান চালানো হয়েছে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে হুথি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ভিডিও প্রকাশ করে। তবে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবিটির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ইয়েমেনের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথি বাহিনী সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে হুথিরা দাবি করছে। এর আগেও ২৪ ঘণ্টায় ৫০টির বেশি সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ করেছিল হুথি বাহিনী।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাব এল-মান্দেব প্রণালি। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিদের অগ্রগতি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথের পরিস্থিতির ওপর এখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ বাড়ছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকাতেও হুথি হামলার পর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তাইফ অঞ্চলে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। ফলে ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।