একসময় সচিবালয়ে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ছিল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। গেটে তল্লাশি, নিয়মিত মনিটরিং আর সভা-সেমিনারে প্লাস্টিকমুক্ত

নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ফিরল সচিবালয়ে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময় , আপডেট সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়

একসময় সচিবালয়ে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ছিল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। গেটে তল্লাশি, নিয়মিত মনিটরিং আর সভা-সেমিনারে প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল কঠোর ব্যবস্থা। কিন্তু সেই কঠোরতা এখন কোথায়? কয়েক মাসের ব্যবধানেই আবার সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ফিরেছে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক! অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়ের ভেতরে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রবেশমুখে তল্লাশি করে প্লাস্টিক বোতল আটকে দেওয়া হতো। সভা-সেমিনারেও প্লাস্টিকের বোতল, কাপ, প্লেট ও চামচ ব্যবহার বন্ধ ছিল। এর পরিবর্তে কাচের বোতল-গ্লাস, পাটজাত পণ্য এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।


সেই সময় পুরো কার্যক্রম তদারকিতে মনিটরিং টিমও কাজ করেছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি অফিস ও সচিবালয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে জারি করা হয়েছিল কঠোর পরিপত্র। কিন্তু সম্প্রতি সচিবালয়ের বিভিন্ন জায়গার চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কর্মকর্তাদের কক্ষে দেখা যাচ্ছে প্লাস্টিকের পানির বোতল। অতিথি আপ্যায়নেও জগ-গ্লাসের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বোতলজাত পানি। কোথাও কোথাও একই বোতলে বারবার পানি ভরে ব্যবহার করার ঘটনাও দেখা গেছে।


শুধু বোতল নয়, সচিবালয়ের ভেতরের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও ক্যাফেটেরিয়াতেও প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার হচ্ছে। বাইরে থেকে কর্মকর্তাদের জন্য খাবার আনার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। এমনকি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে খাবারের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের চামচ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। তবে শুরুর দিকে সচিবালয়ের গেটে যে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চলত, তা এখন বন্ধ। আর এই শিথিলতার সুযোগেই আবার বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার।


পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই দীর্ঘমেয়াদে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কারণ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে মাটি, নদী ও সাগরের ক্ষতি করে। আবার ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করতে পারে।


তাই প্রশ্ন উঠছে—যে সচিবালয় থেকে সারা দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্লাস্টিক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই সচিবালয়েই যদি আবার নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার ফিরে আসে, তাহলে সরকারের প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে?

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯