‘যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন’—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে।

‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়

‘যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন’—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার আলোচিত সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে। এবার নিজেকে এই পুলিশ কর্মকর্তার ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি। শুক্রবার রাজশাহী নগরের নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও এক নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন আন্নি আক্তার।


নওগাঁর বাসিন্দা, নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুবের বিভিন্ন কর্মস্থলে একাধিক সম্পর্ক ও গোপনে বিয়ের ঘটনা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্নির দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন মাহবুব। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।


পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা খুলে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সামনে তিনি কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাহবুব আলম দাবি করেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকনামা বা আইনি নথি পাননি।


বর্তমানে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানার পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার এবং তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই মাহবুব আলম কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।


এখন নতুন করে কথিত বিয়ে, তালাক এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ঘিরে মাহবুব আলমকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯