হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার পেছনে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম তানভীরের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন। এর আগে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন নেতা হাসপাতালে গিয়ে তানভীরের শারীরিক অবস্থা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলামের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে একজন বিএনপি নেতার করা মামলায় গাজী তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে জামিন না দিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং কারা হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিমান্ডের সময় তানভীরের শরীরে অজ্ঞাত একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট তানভীর স্ট্রোকও করেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। একাধিকবার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিন পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকার সময় একজন ব্যক্তির শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পর শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখা যায় না। তিনি সরকারের কাছে রিমান্ডে ব্যবহৃত কথিত ইনজেকশনের পরিচয়, চিকিৎসার নথি এবং তানভীরের শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা। তবে তানভীরের ওপর নির্যাতনের অভিযোগসহ পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় কার, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ।