গণতন্ত্র শুধু নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার নাম নয়—ভিন্নমত ও সমালোচনা মেনে নেওয়ার মানসিকতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। আবার কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই সেটিকে প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। বরং অন্যের মতামত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয়; বরং লেখকের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় আইনমন্ত্রী বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করাই সঠিক পথ। নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজকে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান ও জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, লন্ডনে গেলে কখনো আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা করে চা পান করেছেন, আবার কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে বাংলাদেশে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বইটি পড়ার আহ্বান জানান। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।