রাজধানীর একের পর এক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হঠাৎ করেই জোরদার করা হয়েছে ঢাকার নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, চলছে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। এরই মধ্যে বিশেষ অভিযানে পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শনিবার ডিএমপি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকার প্রবেশপথসহ মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২৫০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব জায়গায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর আটটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
বিভিন্ন বিভাগে গ্রেপ্তারের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৭৬, তেজগাঁওয়ে ৯২, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৩৭ এবং উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন রয়েছেন। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে আরও ১৬ জনকে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, ধারালো অস্ত্র, ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০টি গুলি, তিনটি চাপাতি, পাঁচটি চাকু, ৫৩টি পেরেক, প্রায় ৯৪ কেজি গাঁজা, ১১ হাজারের বেশি ইয়াবা এবং ১২১ গ্রামের বেশি হেরোইন। এছাড়া একটি গাড়ি, পাঁচটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজধানীর সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।