দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু অসন্তোষ প্রকাশ নয়, ভবিষ্যতে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও কর্মসূচির কোনো তথ্য যেন বাইরে না যায়, সে বিষয়ে নেতাদের সতর্কও করেছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে দিল্লি থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। বৈঠকের শুরুতেই দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে সরাসরি বৈঠকের যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি প্রকাশ্যে চলে আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি ক্ষোভ জানান বলে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেই তাদের নিয়ে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বৈঠকটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে ওই নেতা দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ভারতের সরকারের সঙ্গে জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি বলেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে বৈঠকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি। আলোচনায় শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলের নেতৃত্বের কাঠামোয় আনার বিষয়টিও উঠে আসে। তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে ওই নেতা জানিয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার কোনো পদ নেই।
বৈঠকে সম্প্রতি একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তারা দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শেখ হাসিনার দিল্লিভিত্তিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংবেদনশীলতা বেড়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তার রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়েও এর আগে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার অংশ নেওয়া একটি অনুষ্ঠানের বিষয়ে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সেটি বেসরকারিভাবে আয়োজিত এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।