৮ দফা থেকে এক দফা—এবার কি আন্দোলনের পথ বদলের ইঙ্গিত? টাঙ্গাইলে লংমার্চের পথসভা থেকে এমনই বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রয়োজন হলে দাবি আরও বাড়তে পারে, আবার প্রয়োজন হলে সব দফা বাদ দিয়ে এক দফার কর্মসূচিও আসতে পারে।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আজকের লংমার্চ টাঙ্গাইলের দিকে হলেও ভবিষ্যতে এখান থেকেই ঢাকামুখী লংমার্চ হতে পারে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার অভিযোগ, অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে দেশ পরিচালনা না করার কথা বলা হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন ধরনের কার্ডের প্রতিশ্রুতি নয়, তাদের প্রত্যাশিত অধিকার ও দাবির বাস্তবায়ন চেয়েছিল। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা মাঠে নেমেছেন বলে জানান তিনি।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন। তিনি সামনে কঠিন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। একই অনুষ্ঠানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং এক দফার আন্দোলনের দিকে না ঠেলার আহ্বান জানান। ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে শুরু হয়। পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে জোটের নেতারা তাদের ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলের পথসভা থেকে শফিকুর রহমানের ৮ দফা থেকে এক দফায় যাওয়ার বক্তব্যই এখন রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তিনি ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের এক দফা কর্মসূচির কথা বলছেন, তা বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে জানাননি।