মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত

ইসরায়েলকে ৫৪ হাজার টন মারণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ মার্কিন রাজনীতিবিদেরা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময় , আপডেট সময় : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময়

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত এই অস্ত্র চুক্তিতে মোট ৬০ হাজার যুদ্ধাস্ত্র থাকার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ এবং ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড রয়েছে। চুক্তির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। 


তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত চালানের ৬০ হাজার ইউনিটই ২ হাজার পাউন্ডের সাধারণ বোমা নয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪০ হাজার বোমা—২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭—প্রতিটি প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড।  প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মার্কিন কংগ্রেস কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত চুক্তি ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ইসরায়েলি দূতাবাস তখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি। 


এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে এমকে-৮৪ হলো প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের সাধারণ ব্যবহারের ভারী বোমা, যা বড় স্থাপনা ও সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। বিএলইউ-১১৭ একই ওজনশ্রেণির বোমা, যাতে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ভরাট এবং তাপপ্রতিরোধী আবরণ রয়েছে। প্রয়োজনে এতে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী প্রযুক্তিও যুক্ত করা যায়। আর আই-২০০০ পেনিট্রেটর শক্ত কংক্রিট বা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেদ করে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি।  দুই হাজার পাউন্ডের বোমা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভারী বোমার চালান স্থগিত করেছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই স্থগিতাদেশ তুলে দেয়। ২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য ৩৫ হাজার ৫২৯টি এমকে-৮৪ বা বিএলইউ-১১৭ বোমার দেহ এবং ৪ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডের একটি ২০৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠিয়েছিল। 


নতুন প্রস্তাবিত চুক্তি সামনে আসার পর ওয়াশিংটনে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য অস্ত্রগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার এবং বেসামরিক মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস চুক্তিটির ওপর আপত্তি জানিয়ে পর্যালোচনা আটকে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।  ফলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপুল অস্ত্র সরবরাহ শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোয়, কংগ্রেসের পর্যালোচনা কতটা প্রভাব ফেলে এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি চূড়ান্ত হয় কি না—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯