চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, আর সেখানেই বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের বার্তা দিয়ে চীনা নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘থাং শান’ ও ‘দা ছিং’ পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা যুদ্ধজাহাজ দুটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। আধুনিক প্রযুক্তির নৌ সরঞ্জাম, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জাহাজের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়। পরে তিনি জাহাজ দুটির কমান্ডিং অফিসার, কর্মকর্তা ও নাবিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়ে বাংলাদেশ ও চীনের নৌবাহিনীর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো উঠে আসে। পাশাপাশি নৌ-সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর চীনা নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ ‘থাং শান’, ‘দা ছিং’ ও ‘থাই হু’ পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে আসে। জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সফরকে ঘিরে ভবিষ্যতে যৌথ প্রশিক্ষণ, নৌ-নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পেশাগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সফর শেষে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করার সময় দুই দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ মহড়া ‘পাসএক্স’-এ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের নৌবাহিনীর বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।