শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল না, এমন দাবি থাকার পরও অনুমোদন হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার বিল।

বিধি ভেঙে পাঁচ শিক্ষকের ৬৩ লাখ টাকার বিল অনুমোদন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৩ সময় , আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৩ সময়

শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল না, এমন দাবি থাকার পরও অনুমোদন হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার বিল। শুধু তাই নয়, নিবন্ধন সনদ না থাকা শিক্ষক, এমনকি নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকা ব্যক্তিদেরও এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তৎকালীন পরিচালক ফকির মো. নূরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশার ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজের চার প্রভাষকের বকেয়া বিল অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সংগীতের প্রভাষক মৃত্যুঞ্জয় পাঠকের বিল ২০ লাখ ১০ হাজার ৪৭৬ টাকা, আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, জাহিদুল ইসলামের ৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং রফিকুল ইসলামের ৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা।


এ ছাড়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কাহী মন্টু কলেজের সংগীতের প্রভাষক প্রশান্ত কুমার মধুর ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪১ টাকার বকেয়া বিলও অনুমোদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ হলো, এসব শিক্ষক এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বকেয়া পাওয়ার যোগ্য নন। এমনকি মাউশির ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক এ বিষয়ে লিখিত আপত্তিও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরও তৎকালীন পরিচালক একক ক্ষমতাবলে বিলগুলো অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ।


সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের এমপিও নীতিমালা জারির আগে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া দেওয়ার নিয়ম ছিল না। আর পরবর্তী নীতিমালায় এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যোগদানের তারিখ থেকে বকেয়া দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত শিক্ষকরা সেই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত নন। শুধু বকেয়া বিল নয়, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।


নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১০ শিক্ষককে আইন ও বিধি বহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আঞ্চলিক যাচাই কমিটির প্রতিবেদনে কলেজ শাখার ১৫ শিক্ষকের মধ্যে ১০ জনের নিয়োগের সময় নিবন্ধন সনদ ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরও গত ২৮ জুন ওই শিক্ষকদের এমপিও ফাইল অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে মামলা ও তদন্ত চলমান থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের সাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে। সেখানে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত এবং পরে বকেয়া বিল অনুমোদনের অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌসের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তার নিয়োগের সময় নিবন্ধন সনদ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কয়েক বছর ব্যানবেইসের তথ্যভান্ডারে তার নাম পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


এ ছাড়া জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রত্যয়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথাও বলা হয়েছে। উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের তদন্তে একজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার বিষয় উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফকির মো. নূরুজ্জামান বলেছেন, নিয়ম মেনেই শিক্ষকদের বকেয়া বিল অনুমোদন করা হয়েছে। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রেও আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।


এদিকে মাউশির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব বিল অনুমোদন ও এমপিওভুক্তির ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যেসব বিল ও এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নীতিমালা অমান্যের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো কীভাবে অনুমোদন পেল এবং এর পেছনে কারা দায়ী—তা তদন্তে কতটা স্পষ্ট হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯