ফুটবল ম্যাচ চলছিল মাঠে, আর একপর্যায়ে সামান্য কথাকাটাকাটি থেকেই পরিস্থিতি রূপ নিল সংঘর্ষে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে

ইবিতে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই বিভাগের সংঘর্ষে আহত ১০

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৮ সময় , আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৮ সময়

ফুটবল ম্যাচ চলছিল মাঠে, আর একপর্যায়ে সামান্য কথাকাটাকাটি থেকেই পরিস্থিতি রূপ নিল সংঘর্ষে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে আন্তঃবিভাগের খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির পর লাঠিসোঁটা ও গাছের ডাল নিয়েও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের অন্তত ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মধ্যকার খেলা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের আগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। একপর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দলের বেঞ্চের পাশে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের জন্য থ্রো-ইন হয়। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের একজন খেলোয়াড় বল থ্রো করতে গেলে দর্শক সারি থেকে তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।


এ নিয়ে প্রথমে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের মধ্যেও। শুরু হয় কথাকাটাকাটি, এরপর হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা ও গাছের ডাল নিয়ে জড়াতে দেখা যায়। এতে দুই বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে খেলার আয়োজক কমিটি ও দুই বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।


তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলার শেষ মুহূর্তে থ্রো-ইন হওয়ায় তাদের বিভাগের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে বল দূরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী মশিউরকে মারধর করেন এবং এরপর লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


অন্যদিকে সংঘর্ষে আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, বল নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন তাঁকে পেছন থেকে ধরে ফেলে দেন। পরে কয়েকজন তাঁকে মাথা ও মুখে লাথি মারেন বলে তাঁর দাবি। এতে তাঁর মুখ ও দাঁতে আঘাত লাগে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডাক্তার বদিউজ্জামান জানান, খেলাধুলার সময় সংঘর্ষে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পিঠে কেটে যাওয়ার মতো আঘাত এবং আরেকজনের মাথায় স্টিকের আঘাত ছিল। তাঁদের ড্রেসিংসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সবার অবস্থা মোটামুটি ভালো।


ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পরে দুই বিভাগের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের কারণে খেলাটি স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত রেফারি নিয়ম অনুযায়ী নেবেন। ফুটবল মাঠের একটি খেলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও শিক্ষক ও আয়োজকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন স্থগিত ম্যাচের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯