রাশিয়ায় ভোট শেষ হতেই সামনে এলো বড় ফল—বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে পুতিনের দল। কিন্তু এই নির্বাচনের ফলের আড়ালে রয়েছে যুদ্ধ, ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ আর বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন তাই শুধু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তৈরি করেছে নতুন আলোচনা। রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৭১ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া পেয়েছে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ১৪ শতাংশ এবং এলডিপিআর পেয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এর আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, ক্ষমতাসীন দল স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারে। এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও দলটির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
তবে এই নির্বাচন ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু বিতর্ক। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। যুদ্ধ এখনো চলমান। নির্বাচনের সময়ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সাইবার হামলা ও ড্রোন হামলার খবর এসেছে। এবারের নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী কোনো দলকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটের কয়েক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ইয়াবলোকো পার্টির প্রতীকও ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলও ভোটের আওতায় ছিল।
নির্বাচনের শেষ দিন রোববার মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। প্রায় ১৬শ ড্রোন ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। হামলায় দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো অঞ্চলে দূরপাল্লার পাল্টা হামলার প্রভাবের প্রশংসা করেছেন। এর জবাবে রাশিয়া কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র ও নির্ভুল হামলার হুমকি দিয়েছে।
একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, ইজমাইল বন্দর এবং একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সাইবার হামলার খবর থাকলেও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানিয়েছেন, তিন দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবি, অত্যন্ত দক্ষ কোনো গোষ্ঠী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা কমেনি। এর মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্প কিয়েভকে আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।এখন এই নির্বাচনের ফলাফলকে ক্রেমলিন কীভাবে ব্যাখ্যা করে এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ে—সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। তবে নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের অংশগ্রহণ, দখলকৃত অঞ্চলে ভোট এবং যুদ্ধের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।