একটি ১২ বছরের শিশুকে চুরির অপবাদ, এরপর বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ—আর সেই ঘটনায় এবার দলীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে গত শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ১২ বছরের শিশু জিসান ও তার মা নাজমা বেগমের অভিযোগ, মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
মারধরের পর ভয় ও আতঙ্কে প্রায় চার দিন তারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মা ও ছেলে দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতের জায়গাগুলো কালচে হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী জিসানের মা নাজমা বেগমের দাবি, ঘটনার পেছনে আরও একটি বিষয় রয়েছে। তার স্বামী মারা যাওয়ার আগে চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের কাছে জমি বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে ওই লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।
স্বামীর মৃত্যুর পর নাজমা ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। তার অভিযোগ, এ কারণে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এরপরই মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ তুলে তাকে ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই অভিযোগের সত্যতা অবশ্য তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে হাফিজুর রহমান চুন্নু দাবি করেছেন, ওই শিশু চুরি করেছে এবং এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলেন এবং পুলিশ নাকি শিশুটিকে মারধর করে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল।
তবে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাকে জানানো হয়নি এবং পুলিশ এ ধরনের কোনো কথা বলেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। ২৩ সেপ্টেম্বর হাফিজুর রহমান চুন্নুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে ১২ বছরের শিশু ও তার মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত ভিডিওর কথা উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নোটিশের লিখিত জবাব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিতে বলা হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ, মারধরের দায় এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আইনগত তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। বর্তমানে মা ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও দলীয় পর্যায়ে তদন্ত ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে এসেছে।