আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর যে কোনো উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত জামায়াতের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে এমন সুযোগ আর নাও আসতে পারে। তাঁর দাবি, সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে আবার মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, একাত্তরের যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত বিরোধী শক্তি এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এখন একত্র হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব বক্তব্য ও অভিযোগ অবশ্য রাশেদ খানের নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি।
জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত আগে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনি। এবার তারা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এসেছে এবং ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। রাশেদ খান বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ হতে পারে সরকারের নীতির যৌক্তিক সমালোচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা। তবে তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত সরকারের বিরোধিতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে জামায়াত লংমার্চ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা এবং জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে একটি রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে সরকার পতনের হুমকি দেওয়া হলেও জামায়াতের আহ্বানে সাধারণ মানুষ আর আগের মতো রাজপথে নামবে না। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর বিষয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দলটির নেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়ার যে অবস্থান জামায়াত নিয়েছিল, সেটি রাজনৈতিকভাবে তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁর দাবি, জামায়াতের ইন্ধনেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন।
সবশেষে জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগকে যদি আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে সেই আওয়ামী লীগই ভবিষ্যতে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। এ কারণে জামায়াত নেতৃত্বকে তাদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে সকালে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ খান। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।