নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে জানুয়ারির কথা। বার্ষিক পরীক্ষা, বন্যার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচির পরিবর্তন, রমজান, ঈদ, পূজা এবং পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে এমন সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ভোটের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়। নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নির্বাচন পেছানোর পেছনে সরকারের কোনো চাপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন তারিখ পেছায়নি। বরং বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই কমিশন নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করে।
ফলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা কমে গিয়ে এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন সময়সূচি সামনে এসেছে। তবে কোন পর্যায়ের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত তফসিল পরবর্তী সময়ে জানাবে নির্বাচন কমিশন।