দীর্ঘ ১৪ বছর দিদিয়ের দেশমের অধীনে থাকার পর ফ্রান্সের জাতীয় দলে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। আর সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছেন নতুন কোচ জিনেদিন জিদান। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মাঠে নামা ফ্রান্স জিদানের ৪-৩-৩ কৌশলে শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের বাঁ প্রান্তে খেলতে নামা এমবাপ্পেকে শুরু থেকেই দুই ডিফেন্ডার ঘিরে রাখেন। একই সঙ্গে উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না।
অন্যদিকে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তুরস্ক। চতুর্থ মিনিটেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তারা। ইলমাজের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। এরপর গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে বিপদমুক্ত করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে তুরস্ক। কাদিয়োগ্লুর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মাইনিয়ঁ। তুরস্কের উচ্চচাপের রক্ষণ কৌশলের কারণে নিজেদের মধ্যে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয় ফ্রান্সকে।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে ফ্রান্স। আক্রমণের শেষভাগে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। মাঝমাঠে রায়ান শেরকিও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেন। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসের নেওয়া শট অবশ্য আটকে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক চাকির। বিরতির পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় তুরস্ক। কিন্তু ম্যাচের কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় ফ্রান্স। জুলস কুন্দে ও রায়ান শেরকির সম্মিলিত চাপের মুখে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান ওলিসে। সেখান থেকে বাঁ প্রান্তে এমবাপ্পের দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি।
সুযোগ পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার ৬৭তম গোল। তবে গোল করার পরই বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত ৫৯ মিনিটে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার জায়গায় মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিট পরই তুরস্কের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দেন এই তরুণ।
এরপর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। ৬৯ মিনিটে জুলস কুন্দের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামার পর ফরাসি আক্রমণে আরও গতি যোগ হয়। তার গতি সামলাতে তুরস্কের রক্ষণকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। ম্যাচের শেষদিকে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। ৮৮ মিনিটে বারকোলা তুরস্কের রক্ষণ ভেঙে একা এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক চাকির। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এরপর ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে জয় দিয়েই শুরু হলো জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।