মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে—এমন আশা

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৯ সময় , আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৯ সময়

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে—এমন আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি।  গত বুধবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামের ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।


২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ অবস্থায় শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।  ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় একটি বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।


তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো মতামত দেয়নি। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করতে চায় না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।  এদিকে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে একইসঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে—এমন প্রশ্নও করা হয় ব্রিফিংয়ে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বড় শক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও দেশকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করতে চায়।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে কোনো একটি দেশকে বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং এসব দেশের জন্য একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চায়। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারবেন না। তবে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের খুব সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেখানে ছবি তোলার সুযোগও হয়েছিল।


এর আগে নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টানাপোড়েনের বিষয়টি যে ওয়াশিংটনের নজরেও রয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা অবস্থান না নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাক—এটাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯