জাতিসংঘের অধিবেশন ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে যখন ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা চলছে, ঠিক তখনই চীনকে সরাসরি সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডু জানিয়েছেন, ইরানকে চীনের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা দেওয়া ওয়াশিংটনের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—কোনো ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছে। পারডুর দাবি, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প আবারও সি চিন পিংকে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন।
পারডু আরও বলেন, ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে ইরানসহ বিভিন্ন কঠিন ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে আশ্বাসও দিয়েছে। তবে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি বৈঠকে তাইওয়ান, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় আসে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে বেইজিং ইরান সংকটের সমাধানে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল ও অন্যান্য পণ্যের দামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তিন দিনের সফর শেষে সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইরান যুদ্ধের মতো বড় ইস্যুগুলোতে বড় কোনো নতুন সমঝোতা প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ট্রাম্প-সি বৈঠকের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং চীনের কাছ থেকে সহায়তা বন্ধ রাখার প্রত্যাশা। তবে চীন বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটে তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।