মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের পর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়েছে’, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ায় শফিকুর রহমানের উদ্বেগ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৫ সময় , আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৫ সময়

মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের পর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগের পাশাপাশি, ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।  মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শফিকুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবি


রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করা, লুটপাট এবং শেষ পর্যন্ত পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ—রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের এই ঘটনায় এখন তীব্র আলোচনা চলছে। ঘটনার পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যরাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালান। এরপর সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুরের পর কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। 


শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর সেখানে একটি রহস্যজনক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এবার ‘ক্ষমতার গরমের আঁচ’ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুখোশধারী একটি দল রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সেখানে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। 


ঘটনার পর কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। লুটপাটের সময় চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ, টিকা, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন নথি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।  এদিকে ঘটনাটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয় কয়েকটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।  শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যখন জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, তখন একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেই এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এখন তদন্তে মূলত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে—কারা হামলা চালিয়েছিল, কী উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো এবং ঘটনার সঙ্গে জায়গা দখলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯