বিশ্বের অন্যতম বড় আর্থিক কেন্দ্র নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলতে বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময় , আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়

বিশ্বের অন্যতম বড় আর্থিক কেন্দ্র নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলতে বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।


বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সেখানে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যাননি; একজন বাংলাদেশি হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়েই সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন। আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের মূলনীতি একই—সাফল্য নিশ্চিত করা।


রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন—বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। আর ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তিনি তুলে ধরতে চান বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সম্ভাবনাগুলো।


তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। এসব কারণে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে তৈরি পোশাকের বাইরেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরও অনেক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।


জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার কথা জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তার মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের মূল্যায়ন শুধু বক্তব্যের ভিত্তিতে করেন না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, শেষ পর্যন্ত একটি বক্তব্যের পর বাস্তবে কী ঘটে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়—এসবই বিনিয়োগকারীদের যৌক্তিক প্রশ্ন।


তাই নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেই নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের পরিবর্তে উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে মূল্য তৈরি করবে—এমন অংশীদারত্ব চায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।


বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। তাদের স্বার্থ ও নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি। সবশেষে সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।


বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে, তাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত। শিগগিরই আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯