জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কঠোর ভাষণের পর হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বহুল আলোচিত বৈঠক—টানা এক

কূটনীতির মঞ্চে কোণঠাসা ট্রাম্প, বিশ্বমঞ্চেও কমেছে প্রভাব

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময় , আপডেট সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কঠোর ভাষণের পর হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বহুল আলোচিত বৈঠক—টানা এক সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব ও শক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতার পরও দেশ-বিদেশে থাকা একাধিক সংকটের বড় কোনো সমাধান সামনে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে না এলে কঠোর পরিণতির হুমকি দেন। তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা নিয়েও নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এর পরপরই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যেও এই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য ও ইরানসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি। শুধু দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।


তাইওয়ান ইস্যুতেও ট্রাম্পের তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান আলোচনায় এসেছে। প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের বড় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের জন্য পাল্টা চাপের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিচুয়েশন রুমের প্রধান ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রেট ব্রুয়েনের মতে, ট্রাম্প এমন একটি বিশ্বব্যবস্থায় ফিরতে চাইছেন, যেখানে শক্তিশালী পক্ষের প্রভাবই বেশি। তবে চীনের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান অনেকটাই নরম হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


অন্যদিকে জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে বলে দাবি করেন। কিন্তু প্রায় সাত মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ তার পররাষ্ট্রনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি মিত্রদেশ আগাম আলোচনা ছাড়াই শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


বিশ্বনেতাদের বক্তব্যেও ট্রাম্পের বলপ্রয়োগনির্ভর নীতির সমালোচনা উঠে এসেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বিশ্বে শক্তি ও জবরদস্তির রাজনীতি ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও নিজ দেশের রাজনীতিতে বহিরাগত প্রভাবের সমালোচনা করেন। শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা চীন নয়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, জ্বালানি অবকাঠামোয় সীমিত যুদ্ধবিরতি এবং গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমারের মতে, এক বছর আগেও ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে অনেক দেশ যেখানে দ্বিধায় ছিল, এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন পক্ষ আরও প্রকাশ্যে নিজেদের আপত্তি জানাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার যে বার্তা ট্রাম্প তুলে ধরতে চেয়েছেন, তার পাশাপাশি তার নীতির বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯