ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে এবার কোনো ছাড় নয়—সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও

ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতি করলে সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়

ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে এবার কোনো ছাড় নয়—সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার স্পষ্ট বার্তা, কার্ডের সুবিধা দিতে গিয়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা তথ্যের কারচুপি করলে যেতে হবে কারাগারে। রোববার বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচনের আগেও তিনি পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছেন এবং তখনই স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারও সেই অবস্থান থেকে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। এর আগে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে কাজ না করলেও তাদের সততার অভাব ছিল। ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজে সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


তিনি আরও বলেন, অতীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় এমন ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল মানুষ কিংবা অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরবাসীর প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর সময় কলমাকান্দাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে অনিয়মের কারণে সেই উদ্যোগের অপব্যবহার হয়েছিল বলে তিনি জানান।


বিষয়টি ঢাকায় জানানোর পর তথ্য সংগ্রহের পুরো পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা লেংগুড়ায় গিয়ে দুই দিন অবস্থান করে মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে সভায় উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। এবার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিয়ে মাঠকর্মীদের কঠোর নির্দেশনাও দেন তিনি। বলেন, কাজ শুরু করতে হবে ছাপরা ঘর কিংবা গৃহহীন ও অসহায় নারীদের বাড়ি থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তথ্য তালিকায় আনতে হবে।


তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুলবশতও যেন শুরুতেই বিল্ডিং কিংবা আধা-পাকা ভবনে বসবাসকারী স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকায় চলে না আসে। যদিও সরকারের প্যাকেজ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকেরই কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে অসচ্ছল মানুষদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের একটি প্রচলিত সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, কখনো কখনো তথ্য সংগ্রাহকদের এমন বাড়িতে যেতে উৎসাহিত করা হয়, যেখানে বসে সহজে চা বা খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু দরিদ্র মানুষের কুঁড়েঘরে যেতে অনীহা দেখা যায়।


কায়সার কামাল বলেন, এবার এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আগে পৌঁছাতে হবে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো ধরনের দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতি করলে দুটিকেই সমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম হলে এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাগারে যেতে হবে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে এবার কঠোর নজরদারি ও সতর্কতার বার্তা দেওয়া হলো।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯