একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতারাতি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে

ফের উত্তাল ভারত, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১ সময় , আপডেট সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১ সময়

একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতারাতি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমনকি ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপর উঠে স্লোগান দেওয়ার দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে যে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ, সেটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে রোববার ভোরে এই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রীকে একজন বহিরাগত ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি প্লাম্বার বা নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটি হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ভোররাতে ছাত্রী হোস্টেলের কাছে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েকশতে পৌঁছে যায়। ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় স্লোগান ও প্রতিবাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ যুদ্ধবিমানের ওপর উঠে পড়েছেন। অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সামরিক ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতেও দেখা যায়।


বিক্ষোভের সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙার পাশাপাশি একটি ভবনের অংশে আগুন এবং কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের দৃশ্যও সামনে এসেছে। পরে বিক্ষোভকারীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে।


তবে পুরো ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এখনো রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। কাপুরথালা জেলার পুলিশ সুপার গৌরব তুরা জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা শুধু ধর্ষণের অভিযোগ নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসংক্রান্ত আরও কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। পুলিশ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।


অন্যদিকে জলন্ধর রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নবীন সিংলা জানিয়েছেন, অভিযোগকারী ছাত্রীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিকেই আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ফরেনসিক পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে।


বিক্ষোভকারীদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী হোস্টেলের পুরো কর্মী কাঠামো নারী সদস্যদের দিয়ে পরিচালনার দাবিও রয়েছে। এসব দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অস্বীকার—দুই বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে। অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে ফরেনসিক প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের ফলই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯