জামালপুরের মাদারগঞ্জে আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন শত শত গ্রাহক। ২৩টি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করেও সমাধান না হওয়ায় এবার উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেন। এতে সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এক ধরনের স্থবির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বেলা ২টা পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত গ্রাহক অংশ নেন। মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা এলাকা থেকে ‘অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের’ একাংশের নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর তারা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে তারা আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু এখনো তাদের অনেকেই নিজেদের জমা করা টাকা হাতে পাননি। অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের একাংশের নেতা শিবলুল বারী রাজু, শাহা আলী, গোলাম রব্বানীসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সাধারণ গ্রাহকেরা টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজন হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তারা।
এদিকে বেলা ২টার দিকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, সংসদ সদস্য ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তারা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে কী কারণে আবার আন্দোলন শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সমবায় সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুতর বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২৩টি সমবায় সমিতির মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত তিন বছর ধরে এসব অর্থ নিয়ে সমিতিগুলোর পরিচালকরা লাপাত্তা হয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা-মোকদ্দমাও চলছে বলে জানিয়েছেন সমবায় কর্মকর্তা। এখন ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মূল দাবি একটাই—তাদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে। আর অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ কত, কোন কোন সমিতির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহকের টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী—সেদিকেই নজর থাকছে।