একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আবারও নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন কেন—এই প্রশ্ন তুলে সরকারের কাছে তিনটি স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নথিতেও একই দিনে পৃথক ব্যালটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এখন নতুন করে গণভোটের প্রসঙ্গ সামনে আসায় হামিদুর রহমান আযাদের প্রশ্ন—আগের গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান আসলে কী? তিনি জানতে চেয়েছেন, আগের গণরায় যদি কার্যকর ও বহাল থাকে, তাহলে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবার জনগণের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। তার দ্বিতীয় প্রশ্নও ঠিক এখানেই। তিনি জানতে চেয়েছেন, আগের গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে তৈরি হলো। আর যদি আগের গণরায় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই পুনর্বিবেচনার সাংবিধানিক ভিত্তিই বা কী?
তৃতীয় প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ জানতে চেয়েছেন, নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী এবং সেটির সঙ্গে আগের গণরায়ের সম্পর্ক কী। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে থাকা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ওই গণভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুই পক্ষের ভোটের সংখ্যাও গেজেটে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটটি শুধু প্রস্তাবের পর্যায়ে ছিল না, এর ফলও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল। এই অবস্থায় হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য হলো, নতুন গণভোট আয়োজনের আগে আগের গণভোটের রায় কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার মতে, আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন—সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা নয়; বরং এটি জনগণের মতামত জানানোর একটি বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই জনগণ একবার কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের মর্যাদা, কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়নের বিষয় আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
হামিদুর রহমান আযাদ মনে করেন, আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট না করে নতুন গণভোটের প্রশ্ন সামনে এলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি সরকারের কাছে তার উত্থাপিত তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশ্নের কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, নতুন গণভোটের বিষয়ে কী সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি দেখানো হয় এবং আগের গণভোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে নতুন প্রক্রিয়ার সম্পর্ক কী—সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।