৫০ বছর ধরে যে জায়গায় চলছে মাতৃ ও শিশুসেবা, সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখন

জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা যে কারণে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময়

৫০ বছর ধরে যে জায়গায় চলছে মাতৃ ও শিশুসেবা, সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখন দেশজুড়ে আলোচনা। ঢাকার মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমি দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা সামনে আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—জমিটির প্রকৃত মালিক কে? আর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার বৈধ ভিত্তিই বা কী? ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং জমির দাবিদার সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। তবে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নথিতে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে জমিটি কখনোই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।


জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, মিরপুর সেকশন-১-এর ব্লক ডি, এভিনিউ-৪-এর দক্ষিণ পাশে ৬/১ নম্বর প্লটটির মূল মালিক জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। ২০০৬ সালে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই জমি ৯৯ বছরের জন্য সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের ২৯ জুন সমমনা সমবায় সমিতির পক্ষে সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিনের নামে লিজ দলিল সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ সরকারি নথি অনুযায়ী, জমিটির মূল মালিক জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ হলেও লিজের মাধ্যমে সমমনা সমবায় সমিতি জমিটি ব্যবহারের অধিকার পেয়েছে।


অন্যদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ১৯৭৪ সাল থেকেই ওই জায়গায় সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে তাদের অনুমতির মেয়াদ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।


তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় আইনি জটিলতা। কারণ রাড্ডা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালালেও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমিটি তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কোনো আবেদন করেনি বলে জানিয়েছে জাগৃক। এমনকি জমিটির বৈধ মালিকানা নেওয়ার উদ্যোগও তারা নেয়নি। এদিকে ২০২১ সালে সমমনা সমবায় সমিতির সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের লিজ দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। সেই রিট এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কিন্তু আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


রাতের ওই ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মিরপুর শাহআলী থানায় এজাহার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছিল। তবে নথিপত্র পর্যালোচনা করে তিনি বলেছেন, জমিটি কখনোই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ২০০৬ সালে সমমনা সমবায় সমিতিকে বরাদ্দ এবং ২০২১ সালে লিজ দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


তবে জমিটির মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে আইনি বিরোধ থাকলেও কোনো পক্ষের জবরদস্তি বা ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য নয়—এমন অবস্থানই জানিয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধের সমাধান আইনগত পথেই করা সম্ভব ছিল। এখন এই ঘটনায় একদিকে যেমন জমির মালিকানা ও বরাদ্দের নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কীভাবে ওই জমিতে কার্যক্রম চালিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জমি নিয়ে আদালতে রিট বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুর করা হলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা এখন তদন্তের বিষয়। একই সঙ্গে আদালতের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ফলে মিরপুরের এই ঘটনায় এখন শুধু জমির মালিকানা নয়, দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, সরকারি বরাদ্দের প্রক্রিয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনি দায়—সবকিছুই সামনে চলে এসেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯