একটি ম্যাচ, সাতটি অসাধারণ সেভ আর একটি গোলশূন্য ড্র—কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার জীবনের গল্পটাই যেন বদলে দিয়েছে এই

খ্যাতির আলোয় ভোজিনহার অস্বস্তির জীবন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১০ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১০ সময়

একটি ম্যাচ, সাতটি অসাধারণ সেভ আর একটি গোলশূন্য ড্র—কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার জীবনের গল্পটাই যেন বদলে দিয়েছে এই একটি রাত। বিশ্বকাপের আগে ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপারকে ফুটবল বিশ্বের খুব বেশি মানুষ চিনতেন না। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে খেলতেন তিনি। কিন্তু কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার পরই বদলে যায় সবকিছু।


স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেন ভোজিনহা। পুরো ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনকে গোল করতে দেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। পরে সেই বিশ্বকাপেই স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ভোজিনহার সেই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ বিশ্বকাপজয়ী দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।


ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনহার অনুসারী ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। রাতারাতি পাওয়া এই পরিচিতি অবশ্য শুধু আনন্দই নিয়ে আসেনি। বরং বদলে দিয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবনও।


আগে যেখানে নিরিবিলি চলাফেরা করতে পারতেন, এখন বাইরে বের হলেই মানুষ তাকে চিনে ফেলছেন। কেউ ছবি তুলতে চাইছেন, কেউ অটোগ্রাফ চাইছেন, আবার কেউ দূর থেকে ভিডিও করছেন। রেস্টুরেন্টে গেলেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। ভোজিনহার নিজের ভাষায়, আগের মতো শান্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন আর নেই। হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া পরিচিতি এবং বাণিজ্যিক আগ্রহ সামলানোও তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পরিস্থিতি সামলাতে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন তার সাবেক ম্যানেজারকে আবারও দায়িত্ব দিয়েছে। আর ভোজিনহা নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য, অনুসারীর সংখ্যা কিংবা অনলাইনের জনপ্রিয়তা যেন ফুটবল থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে না নেয়। বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি ভোজিনহা। শুধু একটি মোবাইল প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তিনি।


এমনকি নিজের নীতির ক্ষেত্রেও পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক। তামাক, অ্যালকোহল এবং বেটিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়েছে পরিবারের ওপরও। কেপ ভার্দেতে তার মায়ের বাড়িতেও প্রায় প্রতিদিনই ভক্তরা ছবি তোলা কিংবা কথা বলার জন্য ভিড় করছেন।


ভোজিনহা জানিয়েছেন, তিনি কখনো খ্যাতির পেছনে ছুটে এই জীবন পাননি। সুযোগ পেলে তিনি আগের জীবনেই ফিরে যেতে চান। কারণ সেই জীবনে ছিল শান্তি, ব্যক্তিগত পরিসর এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুযোগ। তবে বিশ্বকাপের পর তার ক্যারিয়ারে এসেছে বড় পরিবর্তন। শ্যাভেস ছেড়ে তিনি চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন। সৌদি আরব থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, যদিও সেটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।


শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, জাতীয় দল নিয়েও নিজের সিদ্ধান্ত বদলেছেন ভোজিনহা। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কেপ ভার্দের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর সেই অসাধারণ বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও এসেছে। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি'অরের সেরা গোলরক্ষকের ১০ জনের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ভোজিনহা।


এক ম্যাচের সাতটি সেভ তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। কিন্তু সেই পরিচিতির সঙ্গে এসেছে ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তনও। তাই ভোজিনহার গল্প শুধু একজন গোলরক্ষকের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের গল্প নয়—এটি হঠাৎ পাওয়া খ্যাতি একজন মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, তারও এক অনন্য উদাহরণ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯