ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে তেল রপ্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ

ইরান থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যেও তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে: গালিবাফ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪১ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪১ সময়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে তেল রপ্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও তেল রপ্তানি করতে পারবে না। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন গালিবাফ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যে অঞ্চলে ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য দেশগুলোর তেল রপ্তানিও নিরাপদ থাকবে না। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।


গালিবাফের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানও মুখোমুখি। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে হরমুজ ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। গালিবাফের বক্তব্যে মূলত ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি হলে এর পাল্টা আঞ্চলিক প্রভাব পড়তে পারে—এমন বার্তাই উঠে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের অবকাঠামো নিরাপদ থাকবে না।


এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়েও গালিবাফ একাধিকবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং হরমুজের পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেন। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগও চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।


ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ে এই কঠোর অবস্থানের অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। চলমান সংঘাত ও তেল সরবরাহে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটের চাপ বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


তবে গালিবাফের বক্তব্যকে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর বাস্তব পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতির ওপর। সব মিলিয়ে ইরানের বার্তা স্পষ্ট—তেহরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করছে দেশটির নেতৃত্ব। আর এই হুঁশিয়ারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯