রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা, পদবাণিজ্য ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেননি, যা ভাইয়ের সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে। নিজের চরিত্র নিয়ে আলোচনা না করারও আহ্বান জানান তিনি।
চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রাকসুর এই জিএস। তার দাবি, জুলাইকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য তৎকালীন উপাচার্যের পরামর্শে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাবপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে ওই প্রস্তাবপত্রকে ৭৬ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার চিঠি হিসেবে প্রচার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তার ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় রাজশাহীর কিছু শিক্ষার্থী একটি কমিটি নিয়ে তার কাছে এসেছিল। কিন্তু ওই কমিটি গঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে শিবিরের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তার দাবি, শিবিরের বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি প্রকাশ্যেই অংশ নিয়েছেন এবং সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি বলেন, তাকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হলেও এ নিয়ে তার আপত্তি নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত ও আচরণ তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে।
সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও কোনো অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে ঘটনা তিনি করেননি, সেটি তিনি করেননি—এমন প্রমাণ কীভাবে উপস্থাপন করবেন? অন্যদিকে, তাকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের সময় কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ফলে সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তার নিজের বক্তব্য এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে তার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।