শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম

জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শেষের পথে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৯ সময় , আপডেট সময় : ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৯ সময়

শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বুধবার মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ৪ অক্টোবর এর বাকি অংশ উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।  জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এসব দায়িত্বে থাকার সময় তিনি গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।


রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনা। মামলায় এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। র‌্যাবে তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের কথিত কর্মকাণ্ড এবং র‌্যাবের ভেতরে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।  প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তার জবানবন্দির একটি অংশ দিয়েছেন। আগামী রোববার বাকি অংশ উপস্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। পরে শুরু হবে যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউটরের দাবি, ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটি রাষ্ট্রপক্ষের দাবি; মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। 


এদিকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগের মামলাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়ও সম্প্রতি আরও দুই মাস বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।  লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় বিএনপির পাঁচ নেতাকে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ নিয়েও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলাতেও তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে আরও বহু হত্যাকাণ্ড, গুম এবং নিখোঁজের অভিযোগ নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে থাকা অন্য অভিযোগ ও মামলাগুলোর তদন্তও একই সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এখন মূল নজর ৪ অক্টোবরের শুনানিতে, যেদিন তদন্ত কর্মকর্তার বাকি জবানবন্দি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯