সব ধাপ পেরিয়ে বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাসের অপেক্ষার পর যখন ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হলো, তখনই তার সামনে আসে বড় ধাক্কা—গেজেটে নেই তার নাম। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হতাশা ও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের জুন থেকে কঠোর পরিশ্রম করে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। ব্যাংকের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় সফল হওয়ার পাশাপাশি ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতেও উত্তীর্ণ হন তিনি।
তবে ৪৯তম বিসিএসের পরীক্ষা সামনে থাকায় এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি স্থগিত করে ৪৯তম বিসিএসের দিকে মনোযোগ দেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভাগের শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে জীবনের প্রথম চাকরির ভাইভায় অংশ নেন। তার দাবি, প্রথম ভাইভা হলেও পরীক্ষা ভালো হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সরকারি কর্ম কমিশন তাকে ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। কিন্তু সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। তাহমিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া প্রায় ১০ মাস ধরে চলতে থাকে। বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার ওপর আস্থা রেখে আগে আবেদন করা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় তিনি আর অংশ নেননি। পরবর্তীতে আরও ভালো চাকরির সুযোগ এলেও সেগুলোতেও আবেদন করেননি বলে জানান তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেছেন তাহমিদ। ঢাকায় একটি ছোট ভাড়া বাসায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। গেজেট প্রকাশের পর পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে—এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। এমনকি গেজেট প্রকাশের আনন্দ একসঙ্গে ভাগ করে নিতে শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী নিজের বাড়িতে না গিয়ে ঢাকায় স্বামীর কাছেই ছিলেন। কিন্তু গেজেটে নাম না আসার পর সেই আনন্দের পরিবর্তে পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। গেজেট থেকে বাদ পড়ার কারণ নিয়ে তাহমিদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার দাবি, তার বাবা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি সৎভাবে বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিলেন। তাহমিদের ধারণা, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো তাকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে বাদ দেওয়ার সরকারি কারণ এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তাই বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি বাদ পড়েছেন—এটি বর্তমানে তাহমিদের অভিযোগ ও আশঙ্কা হিসেবে রয়েছে, নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।