রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে স্পিকার ডেকেছেন এবং তিনি দেখা করতে এসেছেন। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত যা হবে, তা হবে।
এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকেল সাড়ে ৪টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সেখানে মিষ্টির বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন স্পিকার। মিষ্টির পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী—তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে সামনে এসেছে। তবে মিষ্টি নিজে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও মোস্তফা জগলুল পাশার নাম এসেছে। তাঁরা মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। রাড্ডা কেন্দ্রের জায়গা নিয়ে আলোচনায় থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্ত ও বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর্যায়ে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। মিষ্টিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে স্পিকারের বক্তব্যের দিকে এখন নজর রয়েছে।